মাহিগঞ্জ সম্পর্কে কিছু কথা
ঐতিহাসিক ড. হ্যামিলটন বুকাননের রংপুর ভ্রমণের ইতিহাসে রংপুর শহরের আদি অবস্থান সম্পর্কে বর্ণিত তথ্যে ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে চারটি এলাকার উল্লেখ ছিল। তা হলো- আদি শহর মাহিগঞ্জ, এর পূর্বে নূরদ্দীগঞ্জ (বর্তমানে নব্দীগঞ্জ), দক্ষিণে মীরগঞ্জ ও পশ্চিমে নবাবগঞ্জ, উত্তরে সাহেবগঞ্জ। এসব স্থানের নামকরণের ঐতিহাসিক অনেক ভিত্তি রয়েছে। মাহিগঞ্জ যেমন ইতিহাস বিজড়িত জনপদ, তেমনি মীরগঞ্জ, নূরদ্দীগঞ্জ ও নবাবগঞ্জেরও রয়েছে নানা গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস। এসব এলাকায় অনেক রাজা, জমিদারদের যেমন বিচরণ ছিল, তেমনি শতাব্দীর পর শতাব্দী নানা আন্দোলন-সংগ্রাম, ইংরেজদের নানা অপশাসনের লীলাক্ষেত্রের নগ্ন ইতিহাসও ছিল। আবার মোঘল শাসকদেরও অনেকের সুকীর্তির উজ্জ্বল স্বাক্ষর বহন করেছে। পাশাপাশি পীর-মাশায়েখ, ধর্মযাজকদের তীর্থভ‚মিও ছিল।
এসব স্থান থেকে বিদ্রোহী সৈন্যরা রাজা শিবচন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতায় জয় দুর্গাবাণী দেবী চৌধুরাণী, ভবানী পাঠক দয়াশীলের সক্রিয় অংশগ্রহণে নূরলউদ্দীনের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। এ সময় মীরগঞ্জের কাছে নুরলউদ্দীনের জ্যেষ্ঠা কন্যা লালবিবি ইংরেজ সৈন্যদের গুলিতে নিহত হয়। লালবিবির নামে লালবাগ হাটের নামকরণ করা হয়। তার কবর রয়েছে মাহিগঞ্জ দমদম সড়কের ধর্মদাস এলাকায় সমর পুকুরের পাড়ে। মীরগঞ্জের জিহাদ পুকুরের কাছেও অত্যাচারী ব্রিটিশদের সাথে দুর্ধর্ষ অনেক যুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নের ধ্বংসপ্রায় এখনো বিদ্যমান। পীরগাছার লোহার পুলের অদূরে আলাইকুড়ি নদীর পাশে জঙ্গলে নাপাইচণ্ডিতে ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে দেবী চৌধুরাণীর ছোট বোন নিহত হন। ভ‚তছড়ার বামনপাড়া থেকে ইতোপূর্বে ব্রিটিশ বিরোধী যুদ্ধ হয়। বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর সতীর্থ রংপুর কৈলাশ রঞ্জন স্কুলের ছাত্র বোমা তৈরিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিপ্লবী প্রফুল্ল চাকী ব্রিটিশ গভর্নর স্যার ফুলারকে হত্যার জন্য ভ‚তছড়ার অদূরে (বর্তমান মীরবাগ) রেল লাইনের নিচে ব্যাটারিযুক্ত বোমা পুতে রেখেছিল। পার্শ্ববর্তী এসব এলাকায় ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন এবং মাহিগঞ্জের সন্ন্যাস রাজা গোসাই মহারাজের এবং ইটাকুমারীর রাজা শিবচন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতায় কৃষক-প্রজা বিদ্রোহ গতি পায়।
আইন-ই-আকবরীর বিবরণ অনুযায়ী মোগল রংপুর ৩ ধরনের প্রশাসনিক এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল। ১৬৮৭ খ্রাষ্টাব্দে ঘোড়াঘাটে মোগলদের একটি ফৌজদারী হেড কোয়ার্টার স্থাপন করা হয়। একই সনে কাকিনা, কাজীরহাট, ফতেহপুর মোগলদের অধীনে আসে এবং ২৪ বছর পর ১৭১১ খ্রীঃ সমগ্র রংপুরে মোগল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা লাভ করে।অষ্টাদশ শতাব্দীর তিন দশকের শুরুতে মাহিগঞ্জে মোগল রংপুরের হেড কোয়ার্টার গড়ে উঠে। পরবর্তীতে ১৭৬৫ সন পর্যন্ত মোগল ইতিহাসের আর তেমন কোন পরিবর্তন ঘটেনি। ১৩’শ শতকে মুসলিম শাসক ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খলজি বাংলা জয় করে রংপুর অঞ্চলে তাঁর প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। মহান সম্রাট আকবরের সেনাপতি মানসিংহ ১৬৮৫ সালে রংপুর'কে সম্রাজ্য ভূক্ত করেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর আমলে শহরের পুরাতন অংশ ‘‘মাহিগঞ্জ’’ এই অঞ্চলের প্রধান বানিজ্য কেন্দ্র ছিল।
আইন-ই-আকবরীর বিবরণ অনুযায়ী মোগল রংপুর ৩ ধরনের প্রশাসনিক এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল। ১৬৮৭ খ্রাষ্টাব্দে ঘোড়াঘাটে মোগলদের একটি ফৌজদারী হেড কোয়ার্টার স্থাপন করা হয়। একই সনে কাকিনা, কাজীরহাট, ফতেহপুর মোগলদের অধীনে আসে এবং ২৪ বছর পর ১৭১১ খ্রীঃ সমগ্র রংপুরে মোগল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা লাভ করে।অষ্টাদশ শতাব্দীর তিন দশকের শুরুতে মাহিগঞ্জে মোগল রংপুরের হেড কোয়ার্টার গড়ে উঠে। পরবর্তীতে ১৭৬৫ সন পর্যন্ত মোগল ইতিহাসের আর তেমন কোন পরিবর্তন ঘটেনি। ১৩’শ শতকে মুসলিম শাসক ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খলজি বাংলা জয় করে রংপুর অঞ্চলে তাঁর প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। মহান সম্রাট আকবরের সেনাপতি মানসিংহ ১৬৮৫ সালে রংপুর'কে সম্রাজ্য ভূক্ত করেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর আমলে শহরের পুরাতন অংশ ‘‘মাহিগঞ্জ’’ এই অঞ্চলের প্রধান বানিজ্য কেন্দ্র ছিল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন